প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কারণ এখানকার কর্মক্ষম নারীদের বেশির ভাগই কর্মসংস্থানের বাইরে। তাদের কর্মসংস্থান হলে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে পারে অঞ্চলটি। খবর রয়টার্স।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরনো আইন ও সামাজিক বাধার কারণে পিছিয়ে আছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নারীরা। বিশেষ করে লিঙ্গবৈষম্য দূর করা গেলে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা চলতি বছর ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ অবস্থার পরিবর্তনে চালিকাশক্তি হতে পারে কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি।
এ অঞ্চলের ৫৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় পাঁচ লাখ নারী কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নেই। যদি নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষদের সমপর্যায়ে আনা যায় তাহলে মোট জিডিপি ২২ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেই সঙ্গে পারিবারিক আয় বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি খাতও শক্তিশালী হবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নারীদের অংশগ্রহণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম অর্থনীতি ফিজিতে জিডিপি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
পুরুষদের মতো নারীরাও একই স্তরের শিক্ষা অর্জন করলেও অঞ্চলটিতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শ্রমবাজারে লিঙ্গবৈষম্য বিদ্যমান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে এখনো ছয়টি দেশে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। ফলে মাতৃত্বকালীন সময়ে নারীদের বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়তে হয়।
অঞ্চলটির জ্বালানি খাতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বেশ এগিয়ে গেছে। এতে খাতটিতে জনবলের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরীয় ১২টি দেশে এ খাতের নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে ভালো বেতনের প্রযুক্তিভিত্তিক পদে নারীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশেরও কম।
সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ হেল্লে বুচহাবে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কর্মসংস্থান থেকে নারীদের বাদ রাখা ব্যবসায়িক দিক থেকে অযৌক্তিক। আমরা নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি।’
বিশ্বব্যাংক অঞ্চলটিতে লিঙ্গভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে এবং নারীদের কাজের ক্ষেত্রে যেসব পুরনো বিধিনিষেধ আছে সেগুলো তুলে দিতে বলেছে। কিছু দেশে যেমন সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভানুয়াতুতে রাতে নারীদের কাজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিছু শিল্পক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যা আজকের বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই নয়।
হেল্লে বুচহাব বলেন, ‘আজকের যুগে এসে এটা মানা যায় না। এ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা মূলত শ্রমবাজারে নারীদের সুযোগ কমিয়ে দেয়। নিরাপত্তা তো শুধু নারীদের জন্য নয়, বরং নারী-পুরুষ সবার জন্যই।’
ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়া, পালাউ, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, টোঙ্গা এবং ভানুয়াতু, এ পাঁচ দেশে এখনো কর্মস্থলে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা নেই। তবে দূরবর্তী অ্যাটল অঞ্চল কিরিবাতিতে নারীদের জন্য সবচেয়ে ভালো আইনি সুরক্ষা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ একাতেরিন ভাশাকমাদজে বলেন, ‘কর্মস্থলে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর সংস্কারগুলোর একটি হতে পারে।’